
ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর পাকিস্তান ছেড়ে দেশে ফিরতে চান শ্রীলঙ্কান ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের বেশ কজন। কিন্তু তাদের সামনে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে নিজ দেশেরই ক্রিকেট বোর্ড। শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট (এসএলসি) বিবৃতিতে জানিয়েছে, ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফদের কেউ দেশে ফিরলে তার পদক্ষেপের ‘আনুষ্ঠানিক পর্যালোচনা’ করা হবে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মঙ্গলবার ইসলামাবাদে আত্মঘাতী এই বোমা হামলায় অন্তত ১২ জন নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন বহু। পাকিস্তান সফরে থাকা শ্রীলঙ্কা দল এখন আছে এই শহরেই। পাকিস্তানের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চলছে তাদের। এরপর আছে জিম্বাবুয়েকে নিয়ে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজও।
বোমা হামলার পর শ্রীলঙ্কা দলের বেশ কজন ক্রিকেটার ও সাপোর্ট স্টাফ বোর্ডকে জানান, তারা দেশে ফিরতে চান। বুধবার গভীর রাত পর্যন্ত ক্রিকেটার, টিম ম্যানেজমেন্ট, এসএলসির কর্মকর্তা ও পাকিস্তানের নিরাপত্তাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও টানাপোড়েন চলে। নানা অনিশ্চয়তায় সিরিজের পরের দুই ওয়ানডে এক দিন করে পিছিয়ে দেওয়া হয়। পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সভাপতি মহসিন নাকভি জানান, বৃহস্পতিবারের ম্যাচ হবে এখন শুক্রবারে, শনিবারের ম্যাচ রোববারে।
ওয়ানডে সিরিজ পিছিয়ে যাওয়ায় ত্রিদেশীয় সিরিজের সূচিতেও বদল এসেছে। সোমবারের পরিবর্তে এখন তা শুরু হবে মঙ্গলবার। ফাইনালসহ বেশির ভাগ ম্যাচ লাহোরে হওয়ার কথা থাকলেও পরিবর্তিত সূচিতে সব ম্যাচই হবে রাওয়ালপিন্ডিতে। যেটির মানে, দলগুলি থাকবে ইসলামাবাদেই।
ক্রিকেটারদের উৎকণ্ঠার পর এসএলসি জানায়, গোটা দলের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছে সবাইকে এবং সিরিজ চালিয়ে যেতে বলা হয়েছে দলকে। এই নির্দেশনার ব্যতিক্রম করলে সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে প্রচ্ছন্ন হুমকি দিয়ে রাখা হয়েছে বিবৃতিতে।
“এসএলসির নির্দেশনার পরও যদি কোনো ক্রিকেটার বা সাপোর্ট স্টাফের সদস্য দেশে ফিরে আসে, তাহলে তাদের পদক্ষেপ খতিয়ে দেখতে আনুষ্ঠানিক ‘রিভিউ’ করা হবে এবং সেই ‘রিভিউ’ শেষে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
পাকিস্তানের নিরাপত্তা সংস্থাগুলি ও পিসিবি কর্তাদের সঙ্গে কথা বলে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার নিশ্চয়তা পাওয়া গেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
পিসিবি প্রধান মহসিন নাকভি, যিনি পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও, তিনি লঙ্কান ক্রিকেটারদের সঙ্গে দেখা করে তাদেরকে আশ্বাস দেবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যেই তিনি দেখা করেছেন পাকিস্তানে শ্রীলঙ্কান হাই কমিশনার ফ্রেড সিরিউইরার সঙ্গে এবং শ্রীলঙ্কা দলের জন্য তাদের নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেছেন, যেটিতে সিরিউইরা আশ্বস্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
২০০৯ সালে পাকিস্তানেই সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছিল শ্রীলঙ্কা দল। লাহোরে টেস্ট চলার সময় টিম হোটেল থেকে স্টেডিয়ামে যাওয়ার সময় বন্দুকধারীরা হামলা চালায় টিম বাসে, ক্রিকেট ইতিহাসে যে ঘটনা নজিরবিহীন। সেই হামলায় ছয় নিরাপত্তাকর্মী, দুই বেসামরিক নাগরিক নিহত হন। আহত হন অনেকে, যাদের মধ্যে ছিলেন পাঁছ লঙ্কান ক্রিকেটার মাহেলা জায়াওয়ার্দেনে, কুমার সাঙ্গাকারা, থিলান সামারাউইরা, থারাঙ্গা পারানাভিথানা ও অজান্তা মেন্ডিস।
এরপর অনেক বছর পাকিস্তানে খেলতে যায়নি কোনো দল। পরে যে দলগুলির সফর দিয়ে পাকিস্তানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট ফেরে, তাদের মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ছাড়া ছিল পাকিস্তানও।
আপনার মতামত লিখুন :