
বাংলাদেশ নারী জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের আনা যৌন হয়রানির অভিযোগ তদন্তে গতি আনতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি)। আগে গঠন করা তিন জনের কমিটিতে নতুন দুজন যোগ করা হয়েছে।
বিসিবি বুধবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, নতুন দুই সদস্য হলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান ও বর্তমান বাংলাদেশ আইন কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. নাইমা হক এবং বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ মুস্তাফিজুর রহমান খান।
প্রথম দফায় গঠিত তিন সদস্যের কমিটির আহ্বায়ক ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারক তারিক উল হাকিম। অন্য দুই সদস্য ছিলেন বিসিবির একমাত্র নারী পরিচালক রুবাবা দৌলা এবং সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ব্যারিস্টার সারওয়াত সিরাজ শুক্লা।
ব্যারিস্টার শুক্লা বাংলাদেশ উইমেন’স স্পোর্টস ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টও।
গত রোববার প্রথম কমিটি গঠনের সময় থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে পাঁচ জনের নতুন কমিটি তাদের প্রতিবেদন ও সুপারিশ জমা দেবেন।
গত বৃহস্পতিবার ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে একটি সাক্ষাৎকারে স্পর্শকাতর বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন জাহানারা আলম।
তিনি জানান, ২০২২ সালের নিউ জিল্যান্ড বিশ্বকাপ চলাকালীন নির্বাচক ও ম্যানেজার মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দিয়েছিলেন। পাশাপাশি, মঞ্জুরুলের বিরুদ্ধে নানা সময়ে মানসিক নির্যাতন, যৌন হেনস্তা এবং প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় বাজে আচরণের অভিযোগও করেন এই পেসার।
জাহানারা একই ধরনের অভিযোগ করেন নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধে, যিনি এক সময় সাবেক বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসানের ব্যক্তিগত সহকারী ছিলেন। এছাড়া, টিম ম্যানেজমেন্ট ও বিসিবির আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে।
জাহানারার দাবি, নারী বিভাগের সেই সময়ের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরিকে কয়েক দফা বিষয়টি জানিয়েও উপযুক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, বরং সাময়িক সমাধান করা হয়েছে। এছাড়া বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকেও লিখিতভাবে জানালেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তখন।
জাহানারা আরও বলেন, অনেক ক্রিকেটার নানাভাবে এসবের শিকার হলেও নানা শঙ্কায় মুখ খোলেন না। তিনি প্রথম বিভাগের একজন ক্রিকেটারের যৌন হেনস্তার শিকার হওয়ার কথাও উল্লেখ করেছেন।
জাহানারা বাংলাদেশের হয়ে ৫২ ওয়ানডে ও ৮৩ টি-টোয়েন্টি খেলেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেশের অন্যতম সফলতম পেসার তিনি। জাতীয় দলেও নেতৃত্ব দিয়েছেন। সবশেষ আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন গত ডিসেম্বরে। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ায় থিতু হয়ে ক্লাব ক্রিকেট খেলছেন এবং কোচিং কোর্সে অংশ নিচ্ছেন।
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল বর্তমানে চীনের নারী দলের কোচ হিসেবে কর্মরত। জাহানারার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি ফেসবুকে জানিয়েছেন, যেকোনো তদন্তের মুখোমুখি হতে প্রস্তুত আছেন এবং সেখানে তার বক্তব্য উপস্থাপন করবেন।
আপনার মতামত লিখুন :