
যে জুটি ভাঙতে পারত শূন্য রানে, সেই জুটিতে এলো ১৩৮ রান। যে ব্যাটসম্যান আউট হতে পারতেন শূন্য রানে, সেই ব্যাটসম্যান খেললেন পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস। এসবের কিছুই হতো না, যদি একটি রিভিউ শ্রীলঙ্কার অবশিষ্ট থাকত! বোলিংয়ের সেই আক্ষেপ তারা মেটাতে পারল না ব্যাটিং দিয়ে। বারবার রঙ বদলের ম্যাচ জিতে সিরিজে এগিয়ে গেল পাকিস্তান।
তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম ওয়ানডেতে পাকিস্তানের জয় ৬ রানে। রাওয়ালপিন্ডিতে মঙ্গলবার ২৯৯ রানের পুঁজি গড়ে লঙ্কানদের ২৯৩ রানে আটকে দেয় শাহিন শাহ আফ্রিদির দল।
পাকিস্তানের জয়ে ব্যাট হাতে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন সালমান আলি আগা। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় ওয়ানডে সেঞ্চুরিতে ৯ চারে ৮৭ বলে অপরাজিত ১০৫ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচ-সেরার স্বীকৃতি পান তিনি।
যিনি শূন্য রানে ফিরতে পারতেন, সেই হুসাইন তালাত ৬ চার ও এক ছক্কায় ৬৩ বলে করেন ৬২ রান।
প্রথম ৩০ ওভারে স্রেফ ১১৯ রান করতে পারা পাকিস্তান শেষ ২০ ওভারে করে ১৮০!
রান তাড়ায় দারুণ শুরুর পর মাঝে পথ হারিয়ে ফেলা শ্রীলঙ্কার আশা জাগিয়ে তোলেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা। ৪৯তম ওভারে তাকে ফিরিয়ে দলকে জয়ের পথে এগিয়ে দেন পেসার নাসিম শাহ। হাসারাঙ্গার ৫২ বলে ৫৯ রানই শ্রীলঙ্কার সর্বোচ্চ ইনিংস। বোলিংয়েও তিনি নেন দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩ উইকেট।
৬১ রানে ৪ উইকেট নিয়ে পাকিস্তানের সফলতম বোলার হারিস রউফ।
রান তাড়ায় শুরুটা দারুণ হয় শ্রীলঙ্কার। সেখানে ভাগ্যের ছোঁয়াও অবশ্য ছিল। ৬ রানে স্লিপে পাথুম নিসাঙ্কার ক্যাচ ফেলেন সালমান। পাওয়ার প্লেতে শ্রীলঙ্কা করে বিনা উইকেটে ৭৫ রান।
দ্বাদশ ওভারে তারা খায় জোড়া ধাক্কা। রউফের পরপর দুই বলে বিদায় নেন কামিল মিশারা (৩৬ বলে ৩৮) ও কুসাল মেন্ডিস। রউফের পরের ওভারে ফেরেন নিসাঙ্কাও (৩৯ বলে ২৯)।
বিনা উইকেটে ৮৫ থেকে দ্রুতই শ্রীলঙ্কার স্কোর হয়ে যায় ৩ উইকেটে ৯০।
চতুর্থ উইকেটে ৫৭ রানের জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সাদিরা সামারাউইক্রামা ও চারিথ আসালাঙ্কা। স্লিপে বাবর আজমের দুর্দান্ত ক্যাচে সামারাউইক্রামার (৪৮ বল ৩৯) বিদায়ে ভাঙে এই জুটি।
জানিথ লিয়ানাগে উইকেটে যাওয়ার পর রান আসছিল দ্রুত। আসালাঙ্কার সঙ্গে জমে উঠছিল তার জুটি। কিন্তু পরপর দুই ওভারে বিদায় নেন দুজনই। আসালাঙ্কা করেন ৪৯ বলে ৩২, লিয়ানাগে ২৪ বলে ২৮।
কিছু করতে পারেননি কামিন্দু মেন্ডিস। ২১০ রানে ৭ উইকেট হারিয়ে লড়াই থেকে অনেকটাই দূরে সরে যায় শ্রীলঙ্কা।
লোয়ার অর্ডারে দুশমান্থ চামিরার সঙ্গে ৩৭ ও সঙ্গে থিকশানার সঙ্গে ৩২ রানের জুটিতে সম্ভাবনা জাগান হাসারাঙ্গা। শ্রীলঙ্কার প্রয়োজন যখন ৯ বলে ২১ রান, নাসিমের ফুল টসে লং অনে ধরা পড়েন হাসারাঙ্গা।
শেষ ওভারে দরকার পড়ে ২১ রান। ইনিংসে প্রথমবার বোলিংয়ে এসে প্রথম তিন বলে দুটি ওয়াইডসহ ৪ রান দেন তালাত। পরের দুই বলে তাকে চার মেরে উত্তেজনা ফেরান থিকশানা। ২ বলে চাই ৯। তবে আর ২ রানের বেশি নিতে পারেননি থিকশানা।
এর আগে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে পঞ্চম ওভারে সাইম আইয়ুবকে হারায় পাকিস্তান। এর আগে-পরে মিলিয়ে টানা ২১ বলে কোনো রান পায়নি স্বাগতিকরা। প্রথম ১০ ওভারে করতে পারে মাত্র ২৮ রান।
খুব মন্থর ব্যাটিংয়ে এগোনো ফাখার জামান গা ঝাড়া দেওয়ার চেষ্টা করেন হাসারাঙ্গাকে একটি ছক্কা মেরে। কিন্তু আরেকটি ছক্কার চেষ্টায় তেড়েফুঁড়ে খেলতে গিয়ে ওই ওভারেই স্টাম্পড হয়ে ফেরেন বাঁহাতি ওপেনার (৫৫ বলে ৩২)।
হাসারাঙ্গার পরের ওভারে এলবিডব্লিউ হয়ে যান মোহাম্মদ রিজওয়ান। নিজের এক ওভার পর বাবরকে (৫১ বলে ২৯) বোল্ড করে দেন এই লেগ স্পিনার।
২৪তম ওভারে পাকিস্তানের রান তখন ৪ উইকেটে ৯৫, যা হতে পারত ৫ উইকেটে ৯৫। হাসারাঙ্গার ওই ওভারেই আউট হতে পারতেন তালাত। এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে সাড়া দেননি আম্পায়ার। প্রথম ১১ ওভারের মধ্যেই নির্ধারিত দুটি রিভিউ নষ্ট করে ফেলায় সুযোগটি পায়নি শ্রীলঙ্কা। রিপ্লেতে দেখা যায়, রিভিউ নিতে পারলে উইকেট পেত তারা।
সুযোগটা দারুণভাবে কাজে লাগান তালাত। জমে ওঠে সালমানের সঙ্গে তার জুটি। সালমান পঞ্চাশ স্পর্শ করেন ৫২ বলে। প্রথম ওয়ানডে ফিফটি করতে তালাতের লাগে ৫৩ বল। তাকে এলবিডব্লিউ করে মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠা ১২১ বলে ১৩৮ রানের জুটি ভাঙেন অফ স্পিনার থিকশানা।
সালমান আরও এগিয়ে ৪৮তম ওভারে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ৮৩ বলে। ষষ্ঠ উইকেটে মোহাম্মদ নাওয়াজের সঙ্গে ৪০ বলে অবিচ্ছিন্ন ৬০ রানের জুটিতে দলকে তিনশর কাছে নিয়ে যান তিনি। ৫ চার ও এক ছক্কায় ২৩ বলে ৩৬ রানে অপরাজিত থাকেন নাওয়াজ।
একই মাঠে আগামী বৃহস্পতিবার হবে দ্বিতীয় ম্যাচ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
পাকিস্তান: ৫০ ওভারে ২৯৯/৫ (ফাখার ৩২, সাইম ৬, বাবর ২৯, রিজওয়ান ৫, সালমান ১০৫*, তালাত ৬২২, নাওয়াজ ৩৬*; আসিথা ১০-২-৪২-১, চামিরা ১০-১-৬৩-০, থিকশানা ১০-০-৬৪-১, লিয়ানাগে ৮-০-৪৮-০, হাসারাঙ্গা ১০-০-৫৪-৩, আসালাঙ্কা ২-০-১৮-০)
শ্রীলঙ্কা: ৫০ ওভারে ২৯৩/৯ (নিসাঙ্কা ২৯, মিশারা ৩৮, কুসাল মেন্ডিস ০, সামারাউইক্রামা ৩৯, আসালাঙ্কা ৩২, লিয়ানাগে ২৮, কামিন্দু মেন্ডিস ৯, হাসারাঙ্গা ৫৯, চামিরা ৭, থিকশানা ২১*, আসিথা ০*; আফ্রিদি ১০-০-৫০-০, নাসিম ১০-১-৫৫-২, রউফ ১০-০-৬১-৪, ফাহিম ১০-০-৪৯-২, নাওয়াজ ৮-০-৪৮-১, সাইম ১-০-১২-০, তালাত ১-০-১৪-০)
ফল: পাকিস্তান ৬ রানে জয়ী
সিরিজ: ৩ ম্যাচের সিরিজে প্রথমটির পর ১-০তে এগিয়ে পাকিস্তান
ম্যান অব দা ম্যাচ: সালমান আলি আগা
আপনার মতামত লিখুন :